ভূয়া ভোটার তালিকা বাতিল হওয়ার পর থেকে নির্বাচনে যেতে ভয় পায় বিএনপি- লিটন


স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের দিকে ভারত, চীন, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া সহ অনেক উন্নত দেশ তাকিয়ে আছে। আমাদের দেশের নির্বাচন হবে, এতে সবার ঘুম হারাম কেন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দৌড়াদৌড়িও দেখেছি। আমরা লক্ষ্য করেছি, দেশের মানুষের প্রতি বিশ^াস ও আস্থা রাখতে না পেরে বিদেশী পরাশক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনকে বন্ধ করতে বা প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। ১৯৭১ যারা এদেশের মা-বোনদের অত্যাচার করেছিল, স্বাধীনতাকামীদের মানুষদের হত্যা করেছিল, তাদের বংশধররা দেশের নির্বাচনকে হস্তক্ষেপ করতে বিদেশী পরাশক্তিকে ডেকে আনছে।

আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী জুনাইদ আহমেদ পলককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ১৯৭৭ সালে হ্যা/ ভোটের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান নির্বাচন নিয়ে নোংরামি করেছিল। ২০০৭ সালে বিএনপি এক কোটি ২৩ লাখ ভূয়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছিল। ভূয়া ভোটার তালিকা বাতিল হওয়ার পর থেকে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য ভয় পায় বিএনপি। বিগত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে, মানুষের কল্যান করেছে, সেটি দেখেও তাদের ভয় আছে। কারণ সারাদেশে উন্নয়ন দৃশ্যমান। ছোট শিশুরা শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। নতুন প্রজন্ম উন্নয়নের পক্ষে নৌকার পক্ষে এসেছে। এটিই হচ্ছে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন আসলে বিএনপি-জামায়াত নানা প্রশ্ন তোলে, কেয়ারটেকার সরকারের দাবি তোলে। সেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিল, ‘পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ থাকে না।’ তারা এখন কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে এতো কথা বলছে কেন। খালেদা জিয়া যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। এখন নতুন করে হরতাল-অবরোধ দিয়ে তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছে। তারা কখনো মানুষের কল্যানে রাজনীতি করে না।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা বারবার আহ্বান করেছিলাম, তারপরও আপনারা নির্বাচনে আসলেন না। সেটি আপনাদের দলীয় বিষয়। তবে ‘নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না’ এই কথা বলার অধিকার বিএনপির নাই, জনগণ আপনাদের এই কথা বলার অধিকার দেয়নি। লন্ডনে বসে তারেক জিয়া হুকুম দিবে, আর দেশের মানুষ ঝাপিয়ে আন্দোলনে পড়বে-এতো বোকা মানুষ নয়। মানুষ এখন উন্নয়নের পক্ষে আছে।

রাসিক মেয়র বলেন, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আরো এগিয়ে যাবে। বিশে^র অনেকের কাছে বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন ঈশর্^ার কারণ। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে কেউ আর পেছনে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, জুনাইদ আহমেদ পলক অনুন্নত সিংড়াকে উন্নয়ন করেছে। তাকে নিশ্চয় আবারো জয়যুক্ত করবেন। ৭ জানুয়ারি বিপুল ভোটে পলককে নির্বাচিত করুন। আমি আপনাদের সাথে আছি।

জনসভায় নাটোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এক সময় সিংড়া ছিল উন্নয়নবঞ্চিত, অন্ধকারচ্ছন্ন, সন্ত্রাস কবলিত একটা জনপদ। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মানুষ শতভাগ বিদুৎ পেয়েছে, রাস্তা-ঘাট পেয়েছে। বিগত ১৫ বছরে যে উন্নয়ন আমরা উপহার দিয়েছি, গত ৫০ বছরেও এতো উন্নয়ন কেউ দিতে পারেনি। সিংড়ার মানুষ উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন পেয়েছে। উন্নয়ন চোখের সামনে দৃশ্যমান। উন্নয়ন দৃশ্যমান, এবার বাড়বে কর্মসংস্থান। আগামীর নান্দনিক ও স্মার্ট সিংড়া গড়তে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মো. ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাবু বিশ্বনাথ দাস কাশীনাথ, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল,  ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ, তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজুল ইসলাম প্রমূখ। সভা সঞ্চালনা করেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস।