
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৩, ২০২৬, ৯:৪৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৩১, ২০২২, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকাশে সরকার সহায়তা দিচ্ছে-খাদ্যমন্ত্রী


নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধি : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার।
আজ বুধবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নিয়ামতপুরের শিবপুরে ত্রিশুল কার্যালয়ে 'ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকাশ ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে মতবিনিময় সভায়' প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, নানা উৎসব আর আন্দোলন নেতৃত্ব দান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য। সেই নৃ- গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে তুলে ধরতেই ত্রিশূলের যাত্রা। ত্রিশূল সে কাজটি ভালোভাবেই করছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে নৃ-গোষ্ঠীর অনেকেই অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা সমাজের মূল স্রোত থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে এটা সত্য, তবে নতুন প্রজন্মের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এখন এগিয়ে আসছে। এসময় তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত হয়ে সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানান।
মানবতার সেবা করতেই ত্রিশূলের যাত্রা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তারা মানবতার সেবায় অনেক ভালো কাজে এগিয়ে এসেছে। শীতকালে শীতার্তকে শীতবস্ত্র প্রদান, করোনাকালে মাস্ক বিতরণের মতো মানবিক কাজে তাদের অংশগ্রহণ উল্লেখ যোগ্য বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ত্রিশূলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য প্রকৌশলী তৃণা মজুমদার এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদি হাসান,পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক।
এছাড়াও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জয়া মারিয়া পেরেরা,নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মদ, পোরশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মঞ্জুর মোর্শেদ, সাপাহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সাহজাহান চৌধুরী, নিয়ামতপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক সুফিয়ান এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী ইসরাত জেরিন মিনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশের সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে নওগাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ত্রিশূল’।
সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে ‘সোপার্জিত কৃষ্টির নীত’- স্লোগানে ২০১৯ সালে নিয়ামতপুর এলাকার ৩০ জন সাঁওতাল শিল্পী নিয়ে ‘ত্রিশূল’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৌশলী ও নৃত্যশিল্পী তৃণা মজুমদার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নওগাঁর বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রামে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক দল গড়ে তুলেছে ‘ত্রিশূল’। ত্রিশূলের কর্মীদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতাল ও উড়াও সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ত্রিশূলের কর্মীরা তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি এ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশ নিয়ে সবার নজর কেড়েছে।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার কাজে ত্রিশূলের কর্মীরা নিয়োজিত। করোনা মোকাবিলার জন্য ত্রিশূলের কর্মীরা নিজ হাতে সেলাই করে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও গাছের চারা বিতরণ করেছেন তারা।
Copyright © 2026 রাজশাহী প্রতিদিন. All rights reserved.