জারুল, কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুর রঙে রঙিন রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস


স্টাফ রিপোর্টারঃ নয়নাভিরাম হরেক রঙের ফুলের মায়ায় জড়িয়ে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠ, দেশসেরা রাজশাহী কলেজ। রাজশাহী কলেজের লাল দালানের স্থাপত্যশৈলী যেমন আমাদের মুগ্ধ করে, তেমনি বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির অপূর্ব সাজ ক্যাম্পাসকে করে তোলে আরও অতুলনীয়।
বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্মের শুরুতেই প্রকৃতি যেন এক রঙিন উৎসবে মেতে উঠেছে। কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম লাল, সোনালুর সোনালি হলুদ আর জারুলের বেগুনি রঙের মেলবন্ধনে ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে এক নান্দনিক সৌন্দর্য। গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে যখন প্রকৃতি ক্লান্ত, তখন এই বাহারি ফুলগুলো যেন এনে দিচ্ছে এক প্রশান্তির ছোঁয়া। প্রকৃতির রুক্ষতাকে ছাপিয়ে তারা মুগ্ধ করছে সবাইকে।
শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের চোখে এই সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। সবুজে ঘেরা এ ক্যাম্পাসকে রঙে রাঙিয়ে দিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে কৃষ্ণচূড়া। সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর, কলাভবন, ফুলার ভবন এবং রসায়ন ভবনের সামনে ছড়িয়ে আছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তলাল ফুলের সমাহার। যেন পুরো কলেজ প্রাঙ্গণকে রাঙিয়ে রেখেছে এই ফুলের উচ্ছ্বাস।
শুধু কৃষ্ণচূড়াই নয়, প্রকৃতি যেন হরেক রঙের ফুলে ছড়িয়ে দিয়েছে তার রঙের ছোঁয়া। এরই মধ্যে বেগুনি আভা নিয়ে ফুটে আছে জারুল। বৈশাখের তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে ফুটে থাকা এই ফুল সবুজ পাতার ফাঁকে তৈরি করেছে এক অনন্য সৌন্দর্য। কলেজের পদার্থবিজ্ঞান ভবন ও পরিসংখ্যান বিভাগের সামনে জারুলের বেগুনি রূপ ক্যাম্পাসকে করেছে আরও মোহনীয়।
অন্যদিকে, পরিসংখ্যান বিভাগ সংলগ্ন এলাকায় ফুটে আছে হলুদ সোনালু। সবুজের পাশে সোনালুর সোনালি আভা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। পদতলে সবুজ ঘাসের কার্পেট আর ওপরে লাল, হলুদ ও বেগুনির সমারোহ—এ যেন প্রকৃতির এক মনোরম উপহার, যা রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাচ্ছুম বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস বরাবরই সুন্দর, তবে গ্রীষ্মকালে যেন এর সৌন্দর্য আরও আলাদা করে ফুটে ওঠে। প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়ার সময় হরেক রকম ফুল দেখে আমাদের মন ভালো হয়ে যায়।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা আলম বলেন, ক্যাম্পাস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। জারুল ও কৃষ্ণচূড়া এখন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এই সৌন্দর্য ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করে রাখছি, কারণ একসময় এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলেও এর মুগ্ধতা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।