উপজেলা নির্বাচনে যেকোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে : সিইসি


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল বলেছেন, প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটে প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনও অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।(বাসস)
তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন আমরা সতর্ক থাকবো, কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করবো। যেকোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আজ মঙ্গলবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রথম ধাপের উপজেলা ভোট উপলক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিইসি এসব কথা বলেন। আগামীকাল দেশের ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোট হচ্ছে। এরমধ্যে ২২টি উপজেলায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে।
সিইসি বলেন, ‘ভোটে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মন্ত্রী-এমপিদের নিবৃত করা হয়েছে, এমনকি প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন কেউ যেন ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশ করতে না পারে এবং সেখানে যেন অনিয়ম না হয়; সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
নির্বাচনে সবার সহযোগিতা কামনা করে সিইসি বলেন, ‘সংশি¬ষ্টরা নিয়ম-কানুন প্রতিপালন করলে নির্বাচনটা সহজ হবে; তারা যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা দুরূহ হবে। এবার কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং প্রার্থীসহ সবার সঙ্গে মত বিনিময় করা হয়েছে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছি।’
ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের নানা ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাবিবুল আউয়াল বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে কারও কারও প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু কিছু অ্যাকশন নিয়েছি। বিভিন্ন ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়, এজন্যে একজনকে ডেকে এনে বক্তব্য নিয়েছি, প্রার্থিতা বাতিল করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদের অনেককে নিবৃত করতে পেরেছি। হয় তো অনেকেই এলাকায় আছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যতদূর দেখেছি, দলীয়ভাবে হোক বা সরকারের পক্ষ থেকে হোক-যাতে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ হয়, কেউ যেন প্রভাব বিস্তার না করেন; সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’
এসময় নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, ফরহাদ আহাম্মদ খান ও পরিচালক (জনসংযোগ) শরিফুল আলমসহ সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে ১৭ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন আর পার্বত্য এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অন্তত ২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে।