
রাপ্র ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সংকট দূর করতে এবং আবাসন সংকটের অবসানসহ বেশকিছু নীতিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ১০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এর আগে আজ সোমবার (২০ জুলাই) অ্যান্ডি বার্নহাম স্ত্রী মেরি ফ্রান্স ভ্রান হিলকে সঙ্গে নিয়ে বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজার অনুরোধে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যান্ডি বার্নহাম।
সেখান থেকে ফিরে ৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম যখন ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছান, তখন সমর্থকরা তাকে তুমুল করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি স্বীকার করেন, ২০১৬ সালের পর থেকে তিনি দেশের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
সোমবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম তার সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে সহকর্মীরা অভিনন্দন জানান। ছবি : এএফপি
বার্নহাম বলেন, ব্রিটেনের এখন বিশ্বকে দেখানো উচিত যে, তারা স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে পারে। একই সাথে তিনি ‘নতুন রাজনৈতিক মডেল’ উপহার দেওয়ার এবং ‘নতুন অর্থনীতি’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য সম্পর্কে এর আগে বার্নহাম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তার প্রথম ফোন কলগুলো যাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে। জেলেনস্কিকে তিনি এই বলে আশ্বস্ত করবেন যে, তিনি শতভাগ তার পাশে রয়েছেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে লেবার পার্টির এই নতুন নেতা বলেন, তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ না দিয়েই ব্রিটেনের জন্য একটি নতুন ১০ বছরের পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসবেন।
স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যগুলোর কথা উল্লেখ করে বার্নহাম প্রতিশ্রুতি দেন, মানুষকে এখনই কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দেওয়া হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কিছু সহায়তা করা হবে। তিনি আরও বলেন, তার প্রথম নির্দেশনাই হবে আবাসন সংকটের অবসান ঘটানো। এর আগে উত্তর ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক মেয়র থাকাকালীন তিনি এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা পুরোপুরি সফল হয়নি।
বার্নহামের অন্যান্য ঘোষণার মধ্যে রয়েছে সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের শিল্পায়নকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আরও বেশি সরকারি আবাসন নির্মাণ করার অঙ্গীকার।
বার্নহামের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিটেনের শ্লথ অর্থনীতি, উচ্চ হারে সরকারি ঋণ নেওয়ার খরচ, ক্রমবর্ধমান কল্যাণমূলক ব্যয় এবং ছোট নৌকায় করে অনিয়মিত অভিবাসীদের আসার মতো বিষয়গুলো। এই ইস্যুগুলো রিফর্ম পার্টির প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে জ্বালানি জুগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির অনিশ্চিত মূল্য এবং ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ওঠানামা করা সম্পর্কও তার প্রধানমন্ত্রিত্বের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বার্নহাম ২০০১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে একজন পার্লামেন্ট সদস্য বা এমপি ছিলেন এবং টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।







