আইন মানার প্রবণতা ও নৈতিক শিক্ষা মিললেই পরিবর্তন সম্ভব: আলাল


রাপ্র ডেস্কঃ বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, আইন মানার প্রবণতা এবং নৈতিক শিক্ষা এই দুইটি একসঙ্গে কাজ করলেই সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আইন এবং অন্তর থেকে উৎসারিত আইন মানার যে প্রবণতা এই দুইটি মিললে সব ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব, অন্যথায় তা সম্ভব নয়।
সোমবার (২০ জুলাই) গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে ‘শিক্ষা বিস্তারে অন্তরায় মাদক ও আওয়ামী দোসরের গভীর ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে নিজেদের মধ্যেও পরিবর্তন আনতে হয়। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সবাই সব সময় খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। সিস্টেমের সঙ্গে খাপ না খাওয়ায় যারা পরিবর্তন আনতে চায়, তাদের বিপদের মুখে পড়তে হয়।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। অনেকেই ১৫ বছর বলেন, ১৭ বছর বলেন; কিন্তু মূল যন্ত্রণাটা, মূলত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে ২০০৭ সালে।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, শিক্ষা শুধু পুঁথিগত বিষয় নয়। এর মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষাও রয়েছে।
তার মতে, পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা মানুষের জীবনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবারের মধ্য থেকে যে নৈতিক শিক্ষা যত বেশি দৃঢ় হয়, মানুষ জীবনের পথ তত সহজে নির্ধারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। মানুষের বৈচিত্র্যময় অভ্যাস ও প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রেও নানা ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে অনৈতিকতার প্রসঙ্গ তুলে আলাল বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশ্ন ফাঁস, প্রশ্নের উত্তর সরবরাহসহ নানা অনিয়মের কারণে শিক্ষাক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নৈতিকতার মান উন্নত করতে পারলে সমাজে মাদকের প্রবেশের সুযোগ কমবে।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখন অনেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল মানছেন। এআই ক্যামেরার কারণে মানুষ আইন ভাঙার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন। তবে শুধু শাস্তির ভয় নয়, মানুষের ভেতর থেকেই আইন মানার মানসিকতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত শিক্ষানীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতির মাধ্যমে নৈতিকতার মান উন্নত করা গেলে পরবর্তী জীবনের শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জীবনে মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—মৃত্যুর পর মানুষ যেন বলে, “এই লোকটা ভালো ছিল।”
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়ক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, পিরোজপুর জেলা প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ খ ম মোজ্জাম্মেল হক, জিয়া নাগরিক সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. আনিসুল আউয়ালসহ প্রমুখ।ব্রেকিংনিউজ।