তানোরে আলু চাষের শুরুত্বেই টিএসপি ও ডিএপি সার কিনে ষ্টোক করছেন চাষীরা


তানোর থেকে সাইদ সাজু: রাজশাহীর তানোরে আলু চাষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন চাষীরা। রোপা আমন ধান কাটার পাশাপাশি প্রজেক্ট আকারে চাষ করা আলু চাষীরা সার ও বীজ কিনে ষ্টোক করতে শুরু করেছেন। অপর দিকে প্রান্তিক আলু চাষীরাও তাদের চাহিদামত সার ও বীজের জন্য হন্যহয়ে এ দোকান থেকে ও দোকান ঘুরছেন। ফলে, চাষীরা বাধ্য হয়ে ডিলারসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করে সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশী দামদিয়ে টিএনপি ও ডিএপি সার কিনে রেডি রাখছেন।

 

তবে, সার ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা বলছেন আলু চাষের বরাদ্ধ হওয়া সার এখনো আসেনি। সেই সাথে আলু লাগাতে এখনো ১ সপ্তাহ থেকে ২সপ্তাহ দেরি আছে। কিন্তু চাষীরা আলু চাষের জন্য এখনি সার কিনে বাড়িতে রাখতে শুরু করেছেন। ডিলাররা বলছেন, আলু চাষের জন্য সারের বরাদ্ধ আসলে সারের কোন সদস্য হবেনা। তাই বেশী দামে কৃষকদের সার কেনার প্রয়োজন হবেনা।

 

ফলে, টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় প্রান্তিক আলু চাষীরা বেশী দামে ডিএপি ও টিএসপি সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে বিসিআইসি সার ডিলাররা এমওপি (পটাশ) না দিলে কৃষকদেরকে ডিএপি দিচ্ছেন না। প্রান্তিক চাষীরা ডিএপি ও টিএসপি’র সাথে এমওপি (পটাশ) কিনতে বাধ্য করছেন।

 

কৃষকরা বলছেন, এবছর আলু’র দাম ভালো পাওয়ায় প্রজেক্ট আকারে চাষ করা আলু চাষীরা সার কিনে ষ্টোক করছেন। ফলে, প্রান্তিক আলু চাষীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। আর এ সুযোগে সার ও বীজ ডিলাররা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। আলু চাষীরা বলছেন, আলু লাগানোর সময় ভালো বীজসহ টিএসপি, ডিএপি’র প্রয়োজন জরুরী। চাষীরা বলছেন সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় সঠিক ভাবে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলনে বিপর্যয় ঘটবে।

 

ফলে, এনিয়ে তানোর উপজেলার আদর্শ আলু চাষী লুৎফর রহমান বলেন, এবছর চিমনা ও মোহাম্মদপুর মাঠে ১শ’ বিঘা জমিতে আলু চাষের জন্য জমি নেয়া হয়েছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আলু লাগানো শুরু করবো কিন্তু চাহিদামত সার পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আলু চাষের প্রজেক্ট মালিকরা ডিলারদের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে ডিলারদের কাছ থেকে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে মজুত ষ্টোক করে রাখছেন ।

 

তিনি বলেন, টিএসপি সারের সরকারী মুল্য ১হাজার ৮০টাকা ও ডিএপি সারের সরকারী মুল্য ৮শ’ টাকা কিন্তু ডিলাররা হাহিদামত সার দিচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, বাইরে থেকে টিএসপি কিনতে হচ্ছে ১২শ’ টাকা থেকে সাড়ে ১২শ’ টাকায়। অপর দিকে ডিএপি ৯শ’টাকা থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সেই সাথে এমওপি না নিলে ডিএপি দিচ্ছেন না বিসিআইসি ডিলাররা।

 

প্রান্তিক কৃষকরা বলছেন, এবছর আলু’র দাম বেশী পাওয়ায় প্রজেক্ট আকারে যারা আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা ডিলারদের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে সার পাচ্ছেন কিন্তু আমরা প্রান্তিক চাষীরা সরকারী মুল্যে টিএসপি ও ডিএপি পাচ্ছিনা। ফলে যে যার মত বেশী দাম দিয়ে বাইরে থেকে বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করে টিএসপি ও ডিএপি কিনতে হচ্ছে। প্রান্তিক কুষকরা বলছেন, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যেই পুরো দমে আলু লাগানো শুরু হয়ে যাবে, সার ছাড়া আলু লাগানো যাবেনা, তাই সার রেডি করে রাখতে হচ্ছে যেন আলু লাগানোর সময়ে সার নিয়ে বিপাকে পড়তে না হয়।

 

আলু চাষীরা বলছেন, শুরুতেই যদি টিএসপি ও ডিএপি সংকট পড়ে তাহলে প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে, তারা বলছেন, যদিও আলু চাষের সময় এখনো বাকি তারপারও চাষীরা সাার না পাওয়ার চিন্তায় সার কিনে ষ্টোক করায় প্রান্তিক চাষীরা বিপাকে পড়েছেন।

 

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, সারের কোন সংকট নেই, আলু চাষের বরাদ্ধ এখনো আসেনি, আলু চাষের জন্য সরকারী বরাদ্ধ আসলে সার নেয়ার লোক খুজে পাওয়া যাবেনা। তিনি বলেন, প্রজেক্ট আকারে করা কিছু আলু চাষী সার কিনে ষ্টোক করছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু সার ষ্টোক করার প্রয়োজন হবেনা।

 

এব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধীকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এবিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসের আলী রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্যার মিটিং এ আছেন জানিয়ে তিনি এবিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।