নওগাঁয় করোনায় ১জন, উপসর্গে মুক্তিযোদ্ধাসহ ২ জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ৭৭৯


রায়হান আলম, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ দু’জনের ও করোনায় ১ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মৃতদের দু’জনেরই বয়স ৭০ বছরের উপরে। এনিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জন আর উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ জনের।

নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া নতুন করে করোনার রিপোর্টে ১ জনের মৃত্যু ও ৩৯ সনাক্ত হয়েছেন। এনিয়ে করোনায় আক্রান্তে নওগাঁয় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ জন আর জেলায় সনাক্ত ৭৭৯ জন। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুদ্দুস শাহ’র গত কয়েকদিন আগে গলাব্যথা, জ্বরসহ করোনার অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেওয়ায় রামেকে ভর্তি করে দেন পরিবারের লোকজন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নমুনা নংগ্রহ করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবারে সাপাহার উপজেলার কুদ্দুস শাহ’র করোনায় মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কবর দেওয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রতিবেদন শুক্রবার রাতে পাওয়া গেছে।

উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হলেন- নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণী (৭২) ও নিয়ামতপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক আব্বাস আলী (৭৬)।

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণী উপজেলা প্রসাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার তার গলাব্যথা, জ্বরসহ করোনার অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার দুপুরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান। পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণীর মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রীয় মর্যদায় দাফন করা হয়েছে। এ দিকে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন জানান, উপজেলা সদরের বাসিন্দা আব্বাস আলী গত বুধবার দুপুরে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে ওইদিন দুপুরে তিনি মারা যান। রাতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত করোনার ফলাফলে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খালিদ সাইফুল্লাহ, সাপাহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল আলম শাহ চৌধূরী, পুলিশ ও নার্সসহ ৩৯ জনের নমুনায় করোনা সনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে নওগাঁয় মোট সনাক্ত হয়েছেন ৭৭৯ জন। মোট সুস্থ্য হয়েছেন ৫৩৮ জন। শুক্রবার রাতে পাওয়া প্রতিবেদনে করোনায় সাপাহারের কুদ্দুস শাহ’র মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এনিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জন আর উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ জনের।