পুঠিয়ায় চুরির অভিযোগে রাজমিস্ত্রিকে নির্যাতনের অভিযোগ


পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছাগল চুরির অভিযোগে রাজমিস্ত্রি বিপ্লবের (২১) উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার ইউপি সদস্য মিলন, আশরাফুল, মিঠু, রনি ও তার সহযোগীরা গত মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পুঠিয়া ইউনিয়নের বারইপাড়া পরীগাছা এলাকায় এই ঘটনা ঘটায়। নির্যাতনের ভিডিও মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।

বিপ্লবের পিতা রফিক জানায়, আমার ছেলেকে মারধর করে আহত করার ঘটনায় গত শুক্রবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ দিকে পুঠিয়া থানায় একটি অভিযোগ পত্র জমা দিই। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী এবং এসআই জাহাঙ্গীর আমাদের থানায় ডেকে বলেন মামলা করা হবে সহি দেন। সে সময় কম্পিউটার থেকে কাগজ বের করে আমার টিপ সহি নেন। বলেন যে মামলা হয়ে গেছে।

বিপ্লবের পিতা রফিক ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) বিপ্লব রাজমিস্ত্রির কাজ থেকে বাড়ি ফিরে। তারপর সে পাড়ার সলিমের স্ত্রীর ফয়তা খেতে যায়। সে সময় বারইপাড়া গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে সাকিল মোবাইল ফোনে ফোন করে তাকে ডাকে। তখন আমার ছেলে একটি ভ্যানে চরে কাঠের আরতের সামনে ঘটনাস্থলে যায়। সে সময় সাকিল বলে আমার আপার ছাগল দুলাভাই বিক্রি করে দিবে তাই আমাকে বিক্রি করতে দিয়েছে। আজ তো বিকেল হয়ে গেছে বিপ্লব এই ছাগল টা তোর শশুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখ।

বলে ছাগলটি ভ্যানের উপর রেখে পালিয়ে যায় সাকিল। সে সময় বিপ্লব সেই ছাগলটি সেখানে একটি বাড়িতে রেখে তার শশুর বাড়ি ঝলমলিয়াতে যায়। বিকেলে সেখান থেকে আসার সময় কাঁঠালবাড়িয়া মাঠের মধ্যে থেকে আশরাফুল, মিঠু, রনি সহ কয়েকজন মোটর সাইকেল নিয়ে গিয়ে বিপ্লবকে তুলে নিয়ে গিয়ে আশরাফুলের বাড়িতে বিচার শালিশের নামে পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মিলন, একই এলাকার আশরাফুল ,মিঠু এবং রনি সহ অনেকে বিপ্লবকে জিআই পাইপের মধে বালি ঢুকিয়ে সেই পাইপ দিয়ে অমানুষিক মারধর করে এতে গুরুত্বর আহত হয় বিপ্লব।

বুধবার সকালে আমরা বিপ্লবকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। শুক্রবার (২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১ দিকে পুঠিয়া থানায় একটি অভিযোগ পত্র জমা দিই। তারপর থানার এসআই জাহাঙ্গীর তদন্ত করে যায়। রবিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বিপ্লবকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু মেডিকেল থেকে নিয়ে আসার পরে আমার ছেলে বিছানা থেকে উঠতে পারছে না, চলাফেরা করতে পারছে না।

তাকে ধরে তুলতে হচ্ছে, ধরে শোয়াতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ দিন খেটে খাই এ অবস্থায় আমাদের পরিবারকে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী এবং এসআই জাহাঙ্গীর আমাদের থানায় ডেকে বলেন, মামলা করা হবে সে সময় কম্পিউটার থেকে কাগজ বের করে আমার টিপ সহি নেন। বলেন যে মামলা হয়ে গেছে।

বিপ্লবের পিতা রফিক আরও বলেন, আমার ছেলে যদি দোষ করে থাকে তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হোক। কিন্তু এভাবে আমার ছেলের উপর অমানষিক নির্যাতন করা কোন অধিকার নেই তাদের। তাই আমি এর তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ট বিচার দাবি করছি।

তদন্তকারী অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর বলেন, এ বিষয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলে বক্তব্য নেন।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, এ ব্যাপারে বিপ্লবের পরিবার থানায় একটি জিডি করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।