শেরপুরে উপজেলা প্রশাসনের ‘দ্রুতসেবা’ পোর্টালের উদ্বোধন


বগুড়া প্রতিনিধি: এতদিন ইলেকট্রনিক্স বা বস্ত্র সামগ্রী, ফুড ডেলিভারি, রাইড শেয়ারিং বা অনলাইন কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকলেও একজন বিদ্যুৎ মিস্ত্রি বা কাঠ মিস্ত্রীকে কী অনলাইনে পাওয়া যেতো এতদিন? অথবা একজন নারী উদ্যোক্তা কেক বা পিঠা তৈরি করেন যিনি? তাকেও অনেকটাই ওয়েব পোর্টালে পাওয়া যায়না।

স্বাভাবিকভাবেই এক প্লাটফর্মে এতগুলো সেবা আগে ছিল না। তাইতো এযোগে একই প্লাটফর্মে সরকারি ও বেসরকারি এবং উদ্যোক্তাদের শতাধিক সেবা দেয়ার পথ সুগম করতে সমন্বিত পোর্টাল তৈরি করছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসন। আর ব্র্যান্ডিং নাম “মেধা ও দক্ষতার শেরপুর” দিয়ে দ্রুতসেবা(ফৎঁঃড়ংযবনধ.ড়ৎম) এই পোর্টাল তৈরী করে দেশের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে দেশের মধ্যে এটিই প্রথম বলে দাবী করে তাক লাগিয়ে দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুমন জিহাদী।

বৃহস্পতিবার(১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে এ লক্ষে শেরপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে মতবিনিময়সভা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু। এসময় মেধা ও দক্ষতার শেরপুর শ্লোগানে ‘দ্রুতসেবা’ নামের অনলাইন পোর্টালটি কেক কেটে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুমন জিহাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শাহ জামাল সিরাজী, সহকারী কমিশনার(ভূমি) এস এম রেজাউল করিম, থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ প্রমুখ সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, শিক্ষক প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সুমন জিহাদী জানান, স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করতে হলে সেবা প্রদান ও সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ করতে হবে। সেটি শুধু সরকারি সেবা নয় বরং সরকারি ও বেসকারি বা উদ্যোক্তা পর্যায়েও করতে হবে। এ কারণে দ্রুতসেবা পোর্টালে ইলেকট্রিশিয়ান, বেকিং এন্ড কুকিং, ইলাস্ট্রেটার এন্ড ফটোশপ এক্সপার্ট, কবলার, দর্জি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কাঠমিস্ত্রি, সব ধরনের দক্ষতা সম্পন্ন মানুষদের প্রোফাইল আপলোড থাকছে।

সাধারণ মানুষের বা যেকোন পর্যায়ে সেবাপ্রার্থীদের যে কোন ধরনের সেবাদাতার প্রয়োজন হলে তারা এই ওয়েব সাইটে ঢুকবে এবং প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী সেবাদাতার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। সেবাদতগণ নিজেরাই এই প্রোফাইলে নিবন্ধন করতে পারবে। সেখানে তার কাজের কিছু নমুনা ছবি আপলোড করতে পারবে যাতে তার কাজ সম্পর্কে সন্ধানকারীর ধারণা তৈরি হয়। দ্রুতসেবা পোর্টাল সমাজের একেবারে প্রাপ্তি পর্যায়ে সেবা দাতা থেকে শুরু করে কর্পোরেট ফার্মকেও সংযুক্ত করা হচ্ছে ।

মেধা ও দক্ষতার শেরপুর গড়ার লক্ষে দ্রুতসেবা পোর্টালের সুফল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, দ্রুতসেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেক আড়ালে থাকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক, বা উৎপাদক, প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও সামনে চলে আসবে। সিন্ডিকেট সিস্টেম হ্রাস পাবে এবং শ্রম, পণ্য এবং সেবা হবে বাধাহীন। দ্রুত সেবা অথবা এক পোর্টালে সব সেবা পাওয়া ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জনাব মো: সাইফুল ইসলাম অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কিছু উদ্ভাবন করার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।

এর অংশ উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা মাত্র এতে এলাকার মানুষ তার উপকার পেতে শুরু করেছে ইতোমধ্য। ডিজিটাল ডিভাইড কমিয়ে এনে তথ্য ও প্রযুক্তির সুবিধা সকলে না পেলে বৈষম্য বিহীন মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব না । দ্রুতসেবা পোর্টালের মাধ্যমে দক্ষ ও আধাদক্ষ যুব সমাজকে কাজের সন্ধান দেয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই বাছাই করে বিভিন্নজনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন লেখক, প্রকাশক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিককর্মীদের এখানে সংযুক্ত করায় সুশীল সমাজের মাঝেও সন্তুষ্টির ছাপ লক্ষণীয়।

তবে এ ওয়েব সাইট ডেভেলপমেন্টে উপজেলার বাইরের কোন টেকনিশিয়ান বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাহায্য নেয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক টেকনিকাল সাপোর্ট দিচ্ছে উপজেলার আর্করো এর তরুণ যুবক মাহবুব এবং রুহুল আইটির প্রতিষ্ঠাতা রুহুল নামে দুটো আইটি প্রতিষ্ঠান।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার যুব সমাজ অত্যন্ত দক্ষ ও সম্ভাবনাময়। তাদের কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। দ্রুতসেবার মাধ্যমে সেই মেধা ও দক্ষতার শেরপুর আমরা গঠন করতে চলেছি । অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে দ্রুতসেবা(ফৎঁঃড়ংযবনধ.ড়ৎম) নামের ওয়েব পোর্টালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয় বলে ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।