
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কৃষি অফিসের বিএস কোয়ার্টারগুলো এখন যেন ‘ভূতরে এবং মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রৌমারী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের সুপারভাইজারের (বিএস) কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শনিবার (২ মে) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর বাজার, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের দাঁতভাঙ্গা বাজার, শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি বাজার, রৌমারী সদর ইউনিয়নের চুলিয়ারচর বাজার, মির্জাপাড়া ও রৌমারী বাজার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পরিষদের পাশেই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার গুলো জরাজীর্ণ হয়ে বেহাল দশা অবস্থায় পড়ে আছে। একতলা ভবনের ছাদ ও দেয়ালের সিমেন্ট খুলে পড়ে রয়েছে। ছাদ দিয়ে ঝড়ছে পানি। কোয়ার্টারের ভেতরে জন্মেছে বড় বড় গাছ ও ঝোপ-জঙ্গলে পরিপূর্ণ এবং রাতের বেলা যুবক ও কিশোরদের মাদকের আখড়ায় পরিনত হয়। ভবনের দরজাগুলো মানুষের পেটে চলে গেছে। বিএস কোয়ার্টারে একটি বাথরুম, একটি রান্নাঘর ও দুটি স্বয়ংকক্ষ রয়েছে। এক সময়ের বসবাসরত ঘরগুলি, ব্যবহার ও সংস্কার না করায়, এগুলো অকেজো হয়ে পডছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের আগে তৎকালীন সরকার এই ভবনগুলো প্রথমে সিড গোডাউন হিসেবে নির্মাণ করে। পরে এই কর্মসূচি বাতিল করা হলে সরকার ওইগুলো ১৯৮০ সালের দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বসবাসের জন্য সংস্কার করে কোয়ার্টারে পরিণত করা হয়। মূলত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের পরামর্শ ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে খুব সহজেই সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি
উপকরণগুলো পৌঁছে দেওয়া হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জিল হোসেন, চুলিয়ারচর গ্রামের মোন্তাজ হোসেন, দাঁতভাঙ্গা বাজারের জুয়েল, রৌমারী সদর সামছুল হক, বড়াইকান্দি বাজারের আনিছ বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখি কোয়ার্টার গুলো জঙ্গলে ভোরা। মাঝে মাঝে দেখা যায় ছোট, বড়, কিছু বখাটে ছেলেরা, সেখানে বসে মাদক সেবন করে। কোয়ার্টার গুলোতে বিএসরা থাকলে কৃষকরা উপকৃত হতো। তাদের কাছ থেকে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও কৃষি বিষয়ে পরামর্শ পেত। ভবনগুলো ভেঙ্গে দিয়ে, নতুন করে ভবন নির্মান করে বিএসদের থাকার উপযোগী করে দিলে এলাকার কৃষকগণ উপকৃত হতো।’
শৌলমারী এলাকার স্থানীয় কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, ‘ওই সময় বিএস কোয়ার্টার
থাকার কারণে সরাসরি অফিসারের পরামর্শ পেতাম। বর্তমানে কোয়ার্টার না থাকায় ঠিকমতো সেবা পাই না। এতে আমাদের কৃষিকাজ করতে খুব সমস্যা হয়।
আমরা চাই এই কোয়ার্টারগুলো আবার চালু হোক।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইউম চৌধুরী বলেন, সুপারভাইজর (বিএস) কোয়ার্টারগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জায়গা। কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত থাকায় কেউ ব্যবহার করছে না। তবে কোয়ার্টার গুলো ভেঙ্গে নতুন করে থাকার উপযোগী করলে কৃষকরা সহজেই সুবিধা পাবে। আমি এব্যাপারে উর্দ্ধোতন মহলকে জানাবো।






