ঠাকুরগাঁওয়ে এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের  মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম হামলার শিকার হয়েছে আন্তনী দাস (১৬) নামে এক কিশোর। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ৮ আগষ্ট। আসামিদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে  বাদীরা।

এ ঘটনায় আহত কিশোরের বাবা পিউসি দাস বাদী হয়ে বুধবার (১২ আগষ্ট) জেলার বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে সামসুল (৫৫) ও দিলদার আলী (৫০) নামে দুজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি মামলা দায় করে। পরে পুলিশ  মামলার এক নাম্বার আসামি মোঃ দিলদার আলীকে গ্রেফতার করে।

এদিকে দিলদার আলী গ্রেফতার হওয়ায় আসামি পক্ষ ভুক্তভোগীদের মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি,  মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

মামলার অভিযোগ  সুত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ আগষ্ট) পিউসি দাসের ছেলে আন্তনী দাসসহ এলাকার কিশোররা বিকালে স্থানীয় বিশ্রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিলো। এসময় বলটি মাঠ থেকে গড়িয়ে প্রতিবেশি সামশুলের ছাগলের গায়ে লাগে। আন্তনী দাস বলটি আনতে গেলে তাকে সামসুল ও দিলদার দুজনে মিলে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। এবং সামশুল হুকুম দিয়ে বলে খৃষ্ট্রানের বাচ্চাকে মেরে লাশ বানিয়ে দাও।

তার পর দিলদার বাশের লাঠির তৈরী খুটি দিয়ে ধারালো অংশ দিয়ে হত্যার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচন্ডভাবে আন্তনী দাসের গলায় চোখে আঘাত করতে থাকে। এবং ২নং আসামি সামশুল চিৎকার করে বলে খৃষ্ট্রানের বাচ্চারা তোরা খুব বেড়ে গেছিস। তোদেরকে এই এলাকা ছাড়াব, না হলে জবাই করে দিবো এমন হুমকি দিতে থাকে। আর কোন মামলা মোকাদ্দমায় গেলে তোদের মেরে ফেলবো।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

স্থানীয়রা জানান, পিউসি দাসের ছেলে আন্তনীসহ আরও অনেকেই স্কুল মাঠে ফুটবল খেলচ্ছিলো এক পর্যায়ে বলটি সামশুলের ছাগলের বাচ্চালে লাগলে সামশুল রেগে আন্তনীকে খারাপ ভাষায় গালাগাল করে এবং দিলদারকে বলে খৃষ্টানের ছেলেটাকে জবাই করে দাও বাকি টা আমি দেখে নেবো। এই হুকুম পেয়ে দিলদার ছেলেটাকে বাশের কাঁচা কঞ্চি ও ছাগল বাধার খুটি দিয়ে পিটিয়ে জঘম করতে থাকে।

নাম না প্রকাশের অনিইচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, সামশুল বেপরোয়া স্বভাবের মানুষ কাউকে তোয়াক্কা করেনা। এর আগেও খৃস্টান পরিবারের উপর সে নির্যাতন করে কিন্তু খ্রীষ্টাণ সম্প্রদায় হওয়ায় তারা প্রদিবাদ করতে পারেনি।

আন্তনীর বাবা পিউস দাস জানান, আমরা গুটি কয়েক খ্রীষ্টাণ সম্প্রদায়ের মানুষ এই গ্রামে বাস করি, কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের কটু কথা শুনতে হয়, যেন আমরা মানুষ না অমানুষ। আমাকে আর আমার পরিবাকে প্রতিনিয়তই হুমকি দিয়ে আসছে তাদের এই অত্যাচারে আমরা রাতে বাড়িতে থাকতে পারিনা।

তিনি আরও বলেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা থানাতেও মামলা করার সাহস পাইনি, তাই কোর্টে মামলা করেছি। আমি আমার ছেলের উপর অন্যায়-অত্যাচারের সুবিচার চাই।

পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,কতবার পুলিশকে বলবো তারা তো আমাদের কথা শুনেনা। আমরা খৃস্টান বলে পুলিশও আমাদের মানুষ মনে করে না। তাদের কাছে খৃস্টানরা জঙ্গলি পশু।

অন্যদিকে  গ্রেফতারকৃত দিলদারের ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরীর সুবাদে মুঠোফোনে বিভিন্ন হুমকি-ধামকিসহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এবং মামলা তুলে না নিলে বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে এমন হুমলি সকাল-বিকাল দেয়।

মামলার এক নং আসামি দিলদার আলীর নামে একটি হত্যা মামলা আদালতে বিচারাধীন।

 

এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।